নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে অন্তত ১৫৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন চার শতাধিক মানুষ। বুধবার (২৬ আগস্ট) দেশটির বাগমতী প্রদেশের রসুয়াসহ আশপাশের কয়েকটি এলাকায় এই ভয়াবহ দুর্যোগ আঘাত হানে।
নেপালের পুলিশ ও স্থানীয় কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে, আকস্মিক বন্যার স্রোতে বাড়িঘর, সড়ক, সেতু, যানবাহন ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ভেসে গেছে। রসুয়া, নুয়াকোট, ধাদিং, চিতওয়ান, গোর্খা, তানাহুঁ ও নওয়ালপুরসহ কয়েকটি জেলা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তিব্বতের সীমান্তবর্তী এলাকায় একটি বড় বরফ-শিলা ধসের কারণে লেন্দে নদীর প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়। পরে বিপুল পরিমাণ পানি ও ধ্বংসাবশেষের স্রোত নেমে এসে ভোতে কোশি নদীতে প্রবেশ করে। মুহূর্তের মধ্যে সেই স্রোত নদীর তীরবর্তী জনপদগুলোতে আছড়ে পড়ে।
তবে নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল পার্লামেন্টে জানিয়েছেন, স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ৩৭ মিনিটে তিব্বত অঞ্চলে একটি ভূমিকম্প অনুভূত হয় এবং প্রায় তিন মিনিট পর, সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে বন্যার খবর পাওয়া যায়। ভূমিকম্পটি এই দুর্যোগের সূত্রপাত ঘটিয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।
কাঠমান্ডু পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বন্যার স্রোত প্রথমে চীনের সীমান্তঘেঁষা তিমুরে আঘাত হানে। সেখানে শত শত মানুষ বসবাস করতেন। এরপর স্রোত নিচের দিকে নেমে স্যাফ্রুবেশি ও অন্যান্য এলাকায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালায়। রসুয়াগাধি সীমান্ত চেকপোস্টে থাকা তিন শতাধিক ট্রাক ও যানবাহনও পানির তোড়ে ভেসে গেছে।
প্রাথমিক হিসাবে নেপালে ১৫৭ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। পাশাপাশি শত শত মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের মধ্যে বিপুলসংখ্যক বিদেশি নাগরিক ও পর্যটক রয়েছেন বলে জানিয়েছে নেপালের পর্যটন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
ভয়াবহ এই দুর্যোগে নেপালের অবকাঠামোও ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অন্তত ১৯টি মোটরযান চলাচলযোগ্য সেতু ও প্রায় ৪০ কিলোমিটার সড়ক পানির তোড়ে ভেসে গেছে। নয়টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে প্রাথমিক প্রতিবেদনে জানা গেছে।
দুর্যোগের পর নেপাল সেনাবাহিনী, পুলিশ ও উদ্ধারকারী দল অভিযান শুরু করেছে। দুর্গম এলাকায় হেলিকপ্টার ব্যবহার করে উদ্ধারকাজ চালানো হচ্ছে। তবে অতিরিক্ত পানি, কাদা ও ধ্বংসাবশেষের কারণে অনেক এলাকায় পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
এদিকে তিব্বতের গিরং এলাকাতেও ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের খবর পাওয়া গেছে। চীনা রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে সেখানে হতাহত ও নিখোঁজের খবর পাওয়া গেছে। ফলে নেপাল-চীন সীমান্তের বিস্তীর্ণ পাহাড়ি এলাকায় দুর্যোগের ব্যাপকতা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সীমান্তের ওপারে এ ধরনের আকস্মিক প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঘটনা ঘটলে দ্রুত তথ্য আদান-প্রদানের ব্যবস্থা না থাকায় নিচের দিকে থাকা জনপদগুলো বড় ঝুঁকিতে পড়ে। বুধবারের ঘটনাও নেপাল ও চীনের মধ্যে কার্যকর আন্তঃসীমান্ত আগাম সতর্কতা ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা নতুন করে সামনে এনেছে।
নেপাল সরকার জানিয়েছে, উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। একই সঙ্গে বন্যার সঠিক কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র জানতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো কাজ করছে।
সূত্র : কাঠমান্ডু পোস্ট ও বিবিসি











